দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জাপানি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে শিল্পকারখানা স্থাপন, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ এবং অবকাঠামো উন্নয়নে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) টোকিওতে বাংলাদেশ–জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো) এবং জাপান–বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের যৌথ আয়োজনে জেট্রোর প্রধান কার্যালয়ে এ ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন বিনিয়োগকে বাংলাদেশ আন্তরিকভাবে স্বাগত জানায়। বাংলাদেশের উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তোলার সময় জাপান পাশে ছিল। এখন দুই দেশের অংশীদারত্ব আরও জোরদার করে শিল্পকারখানা স্থাপন, নতুন কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি এবং যৌথভাবে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে শক্তিশালী অংশীদারত্বে রূপান্তর করা, দুই দেশের জনগণ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য পারস্পরিক সুযোগ সৃষ্টি এবং উভয় দেশের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের লক্ষ্য।
জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি অপরিহার্য। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানির চাহিদা পূরণে জ্বালানি অবকাঠামো, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে জাপানি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ ও সহযোগিতা চায় সরকার।
প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ–জাপান প্রযুক্তি পার্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। জাপানি কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকে কেন্দ্র করে উদ্ভাবনভিত্তিক প্রযুক্তি পার্ক গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ।
মহাকাশ প্রযুক্তিতেও দুই দেশের সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মহাকাশ সক্ষমতা জোরদার করার আগ্রহ রয়েছে। মহাকাশবিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইট প্রকৌশলে জাপানের উন্নত সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সহযোগিতার সুযোগ খতিয়ে দেখতে চায় বাংলাদেশ।
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেয়। জাপানি কোম্পানিগুলো নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ, দক্ষ অবকাঠামো এবং শুল্ক ও করব্যবস্থায় পূর্বানুমানযোগ্যতাকে প্রধান উদ্বেগ হিসেবে তুলে ধরেছে। সরকার এসব উদ্বেগের কথা শুনেছে এবং এরই মধ্যে কিছু সমস্যার সমাধান করেছে। বাকি সমস্যাগুলো সমাধানেও জোরালোভাবে কাজ চলছে।
তিনি বলেন, ব্যবসা পরিচালনার জন্য নিশ্চিততা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা প্রয়োজন। এ দুটি নিশ্চিত করার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা সরকারের দায়িত্ব।
বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন করলে বিনিয়োগকারীরা বড় ও ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি উৎপাদনের বিভিন্ন উপকরণ ও সুবিধা কাজে লাগিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও পণ্য রপ্তানি করতে পারবেন।
তিনি জানান, জাপানের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, বৃহৎ খুচরা বিক্রেতা এবং কৃষিযন্ত্র প্রস্তুতকারকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অবস্থিত জাপানিজ ইকোনমিক জোনে কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।
যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উৎপাদনশীল অর্থনীতির জন্য শহর ও গ্রামের মধ্যে এবং কারখানা ও বন্দরের মধ্যে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা প্রয়োজন। মানুষকে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে পণ্য পরিবহন আরও কার্যকর করতে সরকার দেশব্যাপী উড়ালসড়ক ও উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। এ নেটওয়ার্কের আওতায় দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের আন্তর্জাতিক সুনামের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশব্যাপী উড়ালসড়ক ও রেল নেটওয়ার্কের মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে জাপানের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ। পরবর্তী সময়ে সম্ভাবনাময় প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগ ও অর্থায়নের ক্ষেত্রেও জাপানের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানানো হবে।
শিক্ষার্থী ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ
দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ককে অংশীদারত্বের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতি বছর বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার জন্য জাপানে যান এবং মূল্যবান দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। দেশে ফিরে তারা জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখেন।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বাংলাদেশের লাখ লাখ তরুণ জাপানি ভাষা শিখবেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করতে অবদান রাখবেন এমন ভবিষ্যৎ দেখতে চায় সরকার।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক সহযোগিতার কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ পাবে। অন্যদিকে, ইস্পাত, মোটরযানের যন্ত্রাংশ ও ইলেকট্রনিক উপাদানসহ জাপানের বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা পাবে।
অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ অন্যরা বক্তব্য দেন। জেট্রোর প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমুও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
যে আই